butterfly

মিস প্রজাপতি

সুরজিৎ সেন

তুমি প্রজাপতি বলে

সব সময় ভেবনা আমি শুঁয়োপোকা হব ।

আমার আত্মত্যগকে তোমরা কেন দুর্বলতা ভাব,

আমি যদি প্রতিবাদী হই্, তোমার অস্তিত্ত বিপন্ন 

আসলে আমার মৃত্যু থেকেই হয়, তোমার জন্ম ।

evening

বিকেলের কবিতা

অমিত ভট্টাচার্য

তোমার চোখের ছায়া মসলিন বিকেলের মত
আমাকে শান্ত হতে বলে
এই শহর ,আগুন ,মিথ্যে -ভালবাসা ,ভোটের ভাষণ
অনেক দুরে সরিয়ে আজ
নেমে গেছি সেই মুখের শান্ত জমিতে
যেখানে নদীর ছায়া পথিকের পায়ে হেঁটে যায় সারাদিন

শীতের রোদের মতো ঘাসফড়িং
ওগো ! আমাকে বাঁচতে শেখাও।

rd22

মেয়ে বেলা

ত্রিদীপ ঘোষাল

বছর সাতে হারিয়েছে শৈশব,
দায়িত্ব চাপিয়েছে গাম্ভির্যের মেয়ে বেলা।
কেড়েছে জীবনের সহজ ভাবনা,
যোগ হয়েছে নিয়মকানুন ।

ইচ্ছেগুলো নাম পেয়েছিল বেয়াদপি,
কখনো বা লক্ষীছাড়া।
সমাজ এর কানাঘুষোয়
গোপনে নাম রেখেছিল আশ্রিতা

ঢেকেছিল গলার স্বর,
লজ্জার আড়ালে।
শিখেয়েছিল মাথা নত করে
মেনে নিতে যন্ত্রনা।

কখোনো হারিয়েছে শৈশব,
এঁটো বাসনে,পরিপাটি দায়িত্বে।
ধুলো চাপা প্রিয় গল্পের বই,
দায়িত্ব বোধে,মমতার আড়ালে ।

দায়িত্বর বাঁধনে আষ্টেপিষ্টে ফাঁস,
ইচ্ছের ইচ্ছা মৃত্যু।
নোনতা আঁচলে সুখি,
আগলানো সংসারে ।

cry

মৃতদেহের গান

ঈপ্সিতা চন্দ্র

আমি যে জীবিত সেটা বুঝতেই পারতাম না
যদি না তুমি এসে আঙুল ছুঁয়ে দিতে
একসময় শেষ বিকেলের রোদ টুকুও ছিল পড়ন্ত
শুধু বিষণ্ণ সন্ধ্যা নামার অপেক্ষায়
আকাশ জোড়া কালো মেঘ
বৃষ্টির অপেক্ষা ছিল অন্তহীন
সেই সময় তুমি এসেছিলে
এক পশলা বৃষ্টি হয়ে ভিজিয়েছিলে আমার শরীর মন
ঠোঁট ডুবিয়েছিলে আমার শিরায় শিরায়
পিপাসা মিটিয়েছিলে আমার সবটুকু নিয়ে
আমি যে জীবিত সেটা বুঝতেই পারতাম না যদি না তুমি এসে আমার আগুনে উষ্ণ হতে
তোমার গন্ধে আমার প্রতিটা রাত ছিল মাতোয়ারা
আর তোমার মাঝে বিস্ময় খুঁজতে আমার রাতের পাতাও ছিল এলোমেলো
এমনি করেই পালক স্পর্শে
রঙিন স্বপ্নে ভর করেই শুরু করেছিলাম আমার উড়ান
তারপর.............
অনেকদিন হল হৃৎপিন্ডটা যেন জমে আছে বরফের মত
ততদিনে পিপাসা মিটিয়ে তুমিও পারি দিয়েছো অন্য আগুনের সন্ধানে
শুধু আমি পড়ে আছি তোমার সবটুকু হিম নিয়ে
বরফ শীতল লাশ কাটা ঘরে থেমে গিয়েছে স্বপ্ন উড়ান
বেঁচে আছে অপার একাকীত্বতা

Dead-body

পুত্র হারানো মা কোনো রঙ না

প্রিতম বোদাক

মা কেঁদে উঠলো আমার নিথর দেহের সাক্ষী থেকে।
মা আবার কেঁদে উঠলো আমার বুকে গভীর ক্ষত চিহ্ন দেখে।

আমি চিৎকার করেছিলাম, আমি সুযোগ পেলাম না ঘ্রাণ টুকু নেবার।
আমি তো লাশ হলাম ঘুম ভাঙা স্বপ্নের সাধ পাবার।

কোনো দিন হয়তো চায়ের দোকানে আড্ডার আসরে স্থান পাবো আমি।
হয়তো বা দুই তিন জনের ফেসবুক স্ট্যাটাস হয়েই রইবো আর কমেন্ট করবে কিছু আবাল অন্তর্যামী।

সবশেষে লাশ এর গল্প হবে,আলোচনা হবে না পুত্র হারানো মা এর কথা।
দিয়েছে এ বুকে ক্ষত,সে ক্ষত আমার না, মা এর ব্যাথা।

কত চিল শকুনি বসবে মিডিয়ার পুরোনো বাড়ির ছাদেতে।
আর কিছু মানুষ বলবে
"আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতেতে"

মোমবাতি নয়,গর্জে উঠুন।
বুদ্ধিজীবি মাথায় পরুক বাজ।

ইতি
পুত্র হারানো মা(কোনো রঙ না)

Kolkata Gate

নিউটাউন

আগ্নিভ মাইতি

পাঁচমাথা বাসস্টপ

পুব দিকে এক কোণে

কত গত বসন্ত অপেক্ষা...

শেষমেশ ছেড়ে যায় ১০.০৮ এর

নিউটাউন,

সেও পায়নি খবর

তুমি ভালো আছো কিনা ?

গোলকধাঁধা

গৌরভ তপাদার

ঘুমটা ভেঙে যেতেই চোখ গেল ঘড়ির কাটার দিকে , 6p.m October 8 . বুঝলাম , ঘড়িটার বারোটা বেজে গেছে । পাশের ঘর থেকে মা এর গলা কানে আসছে " বাবু চা টা নিয়ে যাস একটু "। স্বভাববশতই চা এর আগে মোবাইলটা হাতে নিলাম। Whatsapp এ Unread মেসেজেস।
Girlfriend এর মেসেজ প্রথমেই , "সন্ধ্যা 7টায় পদ্মশ্রী তে অপেক্ষা করবো , No late"। খটকা লাগলো মনে,কালকেই তো দেখা করলাম।আজ আবার হঠাৎ ? সাধারণত আমরা রোজ দেখা করি না।
দ্বিতীয় মেসেজ টা এক দাদার "রাত 10তা নাগাদ চায়ের দোকানে আসিস তো একটু,দরকারি কথা আছে"। কেমন যেন লাগলো,কারণ কাল রাতেই তো এই মিটিং টা হয়ে গেছে ।
ঝটপট বিছানা থেকে উঠলাম, মা ডেকেই চলছে চা নেবার জন্য। পাশের ঘরে গিয়ে দেখলাম বাবা TV দেখছে ।
- অফিস যাবে না ?
- আজ তো রবিবার,কিসের অফিস আবার ? মাথাটা কি গেছে নাকি বিকেল বিকেল ?? সারাদিন তো বাড়িতেই দেখলি ।
- বিকেল ?
ডিজিটাল clock টার দিকে চোখ পড়তে মাথাটা কেমন ঘুরিয়ে গেল।
6:10pm
কিন্তু এ কি করে সম্ভব ? রাত 2টোয় ঘুমিয়ে আমি বিকেল 6টায় উঠেছি মানে তো আমি সারাদিন ঘুমিয়েছি। অথচ কেউ ডাকলো না !
স্নান করতে যাবো , মা বললো " কি হয়েছে ? এখন স্নান কেন করছিস ? স্নান করে খেয়ে ই তো ঘুমালি!"
খুব অবাক হয়ে বাড়ির দিয়ে বেরোলাম, রাস্তায় দেখা অর্কর সাথে,আমার বন্ধু।দেখা হবার পর থেকেই ও যা যা বলছিল আর করছিল সব টাই আগের দিন হয়ে গেছে ,আমি যেন সব মেলাতে পারছি আগের দিনের সাথে ।
7টায় পদ্মশ্রীতে দেখা করলাম Girlfriend এর সাথে। আগের দিনের মতোই অর্ক রয়ে গেল , আগের দিনের ড্রেস টাই পরে আছে আমার Girlfriend । আর ওর কথা গুলো সব কালকের ।

একটা অস্বস্তি হতে লাগলো , ভেবে ভেবে কুল কিনারা পাচ্ছি না।আমি কি সত্যি এ কালকের বিকেলটাতে রয়েছি ? কিন্তু এটাও কিকরে হয় ? মানুষ কি কখনো একই সময় দুবার পার করতে পারে নাকি ?বাকিদের তো খুব নরমাল মনে হচ্ছে।
রাতে বাড়ি ফিরলাম। খেয়েদেয়ে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর চেষ্টায় । কখনো কখনো উত্তর না খোঁজার চেষ্টা না করে প্রশ্ন টাকেই বাতিল করা উচিত। ঘুমিয়ে পড়লাম এক সময়ে।

ঘুম ভাঙলো মা এর গলার আওয়াজে " বাবু চা টা নিয়ে যাস একটু" । মনের ভয় তা প্রগাঢ় হয়ে উঠেছে আর তখনই ঘড়ির দিকে চোখ।
6pm , October 8 ।
মোবাইল টা হাতে নিলাম,ঘেমে গেছি,হাত কাঁপছে।
2 Unread Messages On Whatsapp.
-- "সন্ধ্যে 7টায় পদ্মশ্রী তে অপেক্ষা করবো, No Late" ।
-- "রাত 10তা নাগাদ চায়ের দোকানে আসিস তো একটু,দরকারি কথা আছে" ।
ছুটে পাশের ঘরে গেলাম।যেটা ভয় ছিল সেটাই হলো, বাবা TV দেখছে । নিজের ভয় টাকে সত্যি প্রমান করার জন্য প্রশ্ন করলাম
-- " অফিস যাবে না ? "
-- " আজ তো রবিবার, কিসের অফিস..........."
ছুটে রাস্তায় বেরোলাম , জানি আমি। অর্কর সাথে আবার দেখা হবে। দেখা হলো , খুব অসহ্য লাগছে সব । চারিপাশের সবকিছু। এই মানুষ গুলো কেউ আসল নয় । একটা সময়ের প্রতিবিম্ব মাত্র। আর আমি সেই সময়ের গোলকধাঁধায় ফেঁসে গেছি। বেড়ানোর রাস্তাটুকুও জানা নেই আমার। মাথার শিরা ফুলে যাচ্ছে ভয় তে । চোখ ঠিকরে জল বেরিয়ে আসতে চাইছে। হাত পা কাঁপছে। এটা স্বপ্ন নয়,সত্যি আমার সাথে ঘটছে।

রাতে বাড়ি ফিরলাম। খাওয়াদাওয়া করে নিজের ঘরে এলাম। মুখে পুড়তে থাকলাম একের পর এক ঘুমের ওষুধ ।
এই ঘুমটাই যেন হয় শেষ ঘুম।
আমি আর এই সময়ের গোলকধাঁধায় বাঁচতে চাই না।
শরীর টা ঝিমিয়ে পড়লো, লুটিয়ে পড়লাম মাটিতে।

হঠাৎ ঘুম তা ভেঙে গেল, ঘড়ির দিকে চোখ গেল সবার আগে...... 6p.m ,October 8 .
আবার...........।

time-illusion

Next Steps...

Take a step, create your future, enrich your talent.